1. admin@dailyprotidinervor.com : Dailyprotidinervorofficial :
বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ০৮:৫৫ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
আপনার বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন
সর্বশেষঃ
গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে ‘গেম খেলছেন’ নেতানিয়াহু: হামাস মুখপাত্র ২ বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন ইইডির প্রধান প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মনোনয়নের প্রার্থী সংখ্যাই প্রমাণ করে নারী জাগরণ ঘটেছে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব মুসলিমদের হেদায়েত কামনায় শেষ হলো আখেরি মোনাজাত সাংবিধানিক ধারা মেনেই নির্বাচনে যাব : রওশন এরশাদ শেষ হলো জাতীয় ফলমেলা ২০২৪ মানিকনগরে নকশাবহির্ভূত ভবনে রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান-জরিমানা কেরানীগঞ্জে নকশাবহির্ভূত ভবনে রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান দক্ষিণখানে নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ করায় রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান মহাখালী ও জোয়ারসাহারায় নকশাবহির্ভূত ভবনে রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান উত্তরায় রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে রাজউকের নানা উদ্যোগ ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত শতভাগ অগ্নি নিরাপদ নিশ্চিত না হলে ভবন ব্যবহার করা যাবে না: রাজউক বাংলাদেশে আরও রোহিঙ্গা প্রবেশের শঙ্কা

তীব্র দাবদাহে পুড়ছে দেশ

  • আপডেট সময় রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৪
  • ১৩ বার দেখা হয়েছে

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাতদিন ছুটি ঘোষণা
হিট স্ট্রোকে চুয়াডাঙ্গা, গাজীপুর ও পাবনায় তিনজনের মৃত্যু * যশোরে সর্বোচ্চ ৪২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড * হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ, পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম অবস্থা
তীব্র দাবদাহে যেন সারা দেশ পুড়ছে। দিনদিন তাপমাত্রার পারদ উপরের দিকে উঠছে। গরম ও অস্বস্তিতে হাঁসফাঁস অবস্থা মানুষের। বাতাসে ‘আগুনের ফুলকি’ উড়ছে। প্রখর তাপে বিপর্যস্ত জনজীবন। বিশেষ করে নাভিশ্বাস উঠেছে শ্রমজীবী মানুষের। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাচ্ছেন না অনেকেই। রৌদ্রের প্রখর তাপে চুয়াডাঙ্গাসহ কয়েকটি জেলায় সড়কের পিচ গলে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসল। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শনিবার যশোরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। ঢাকায় ছিল ৪০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৪৪টি পর্যবেক্ষণাগারের মধ্যে ১২টিতে শনিবার ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতি তীব্র তাপপ্রবাহ হিসাবে গণ্য করা হয়। চলমান দাবদাহ তীব্র আকার ধারণ করায় দেশে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য থাকায় মানুষের মধ্যে অস্বস্তি বেড়েছে। এ বৈরী আবহাওয়ায় চুয়াডাঙ্গা, গাজীপুর ও পাবনায় হিট স্ট্রোকে তিনজন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হাসপাতালগুলোয় অসুস্থ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাতদিন ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে ঈদের ছুটির পর এসব প্রতিষ্ঠান আজ খুলছে না। একই সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোয় ক্লাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অতিপ্রয়োজন ছাড়া বেলা ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ৩১ মার্চ থেকে কয়েকদিন দেশে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বিরাজ করে। বৃষ্টির কারণে মাঝে কয়েকদিন আবহাওয়া ঠান্ডা থাকলেও ১৩ এপ্রিল থেকে আবারও তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। শনিবার কয়েক জেলায় অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। সামনের দিনগুলোয় তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। তখন ৪২-৪৪ ডিগ্রি সেলিয়াসে ওঠানামা করতে পারে। অর্থাৎ হিট অ্যালার্ট বহাল থাকবে। এপ্রিলজুড়েই এ অবস্থা চলবে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা শনিবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বলেন, এপ্রিলে তাপমাত্রা বেশি থাকে। বর্তমানে যে তাপমাত্রা রয়েছে, তা আরও বাড়তে পারে। তাপমাত্রা বাড়ার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তাতে ৪২-৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠানামা করার আভাস রয়েছে। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে শনিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দু-এক জায়গায় গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে তা তাপমাত্রা কমানোর ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে না। শনিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে। সেখানে তাপমাত্রা ছিল ৪২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
চুয়াডাঙ্গায় ছিল ৪২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঈশ্বরদীতে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন ঢাকায় ৪০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানান, বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য থাকায় মানুষের শরীরে অস্বস্তি বেশি ছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তরের শনিবার সন্ধ্যা ৬টার প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৪৪টি পর্যবেক্ষণাগারের মধ্যে ১২টিতেই ৪০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা ছিল। এছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানেও মৃদু থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রা ৪০-৪১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেই তা তীব্র তাপপ্রবাহ হিসাবে গণ্য করা হয়। ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে উঠলে তা অতি তীব্র দাবদাহ বলা হয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ : রমজান, ঈদ ও বৈশাখের টানা ২৬ দিনের ছুটি শেষে আজ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার কথা ছিল। গরমের তীব্রতার কারণে সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সব স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। ২৮ এপ্রিল যথারীতি খুলবে। একই সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সারা দেশের কলেজগুলোয় ক্লাসও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

যদিও শনিবার সকালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অ্যাসেম্বলি (প্রাত্যহিক সমাবেশ) বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরে দুপুরে ওই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে মন্ত্রণালয়। ওই সময়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, চলমান দাবদাহে শিশু শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিবেচনায় আজ ২১ এপ্রিল থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের বিদ্যালয় ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর লার্নিং সেন্টারগুলো বন্ধ থাকবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরও তাদের বিবৃতিতে ছুটি বাড়ানোর কথা জানায়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল সাংবাদিকদের বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শক্রমে এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসের পরিপ্রেক্ষিতে দেশে চলমান তাপপ্রবাহ ও হিটওয়েভের পূর্বাভাস দেখে কয়েকদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটলে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে পুনরায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হতে পারে।

এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে একধরনের স্বস্তি দেখা গেছে। তারা বলছেন, গরমে এমনিতে অস্বস্তিতে থাকতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকলে ক্লাস-পরীক্ষাসহ নানা ধরনের চাপ থাকবে। তাই তীব্র গরমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখায় একধরনের প্রশান্তি কাজ করছে তাদের মাঝে।

হিট স্ট্রোকে তিনজনের মৃত্যু : তীব্র গরমে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় জাকির হোসেন নামের একজন কৃষক, গাজীপুরে সোহেল রানা নামের এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি এবং পাবনায় সুকুমার দাস নামের একজন মারা গেছেন। এর আগের দিন বৃহস্পতিবারও পাবনায় একজন হিট স্ট্রোক করে মারা যান।

পাবনা প্রতিনিধি জানান, হিট স্ট্রোক শনিবার সুকুমার দাস মারা গেছেন। শনিবার দুপুরে পাবনা শহরের রূপকথা রোডের একটি চায়ের দোকানে চা খাওয়ার সময় তিনি হিট স্ট্রোকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত সুকুমার দাস (৬০) পাবনা শহরের শালগাড়িয়া জাকিরের মোড়ের বাসিন্দা।

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, অতি তীব্র দাবদাহে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বজনরা। দামুড়হুদা উপজেলার ঠাকুরপুর মাঠে কাজ করার সময় শনিবার সকাল ১০টার দিকে ওই কৃষক মারা যান। মারা যাওয়া কৃষক জাকির হোসেন (৪০) দামুড়হুদা উপজেলার ঠাকুরপুর গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে এবং উপজেলার ঠাকুরপুর-পীরপুরকুল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি ছিলেন।

ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, সকালে মাঠে কাজ করছিলেন জাকির হোসেন। প্রচণ্ড গরমে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। তবে এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আওলিয়ার রহমান যুগান্তরকে বলেন, যেহেতু হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তিনি মারা গেছেন, তাই এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলা যায় না। তবে সকালে যেহেতু তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকে, তাই হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার কথা বলা যায় না।

যুগান্তর প্রতিবেদন, গাজীপুর : গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীতে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে সোহেল রানা নামের একজন মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক মারা গেছেন। তার মরদেহ উদ্ধার করে গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সকালে ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে কোনাবাড়ী মেট্রো থানা পুলিশ কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার সড়কে সোহেল রানাকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখতে পায়। পরে পুলিশ তাকে রিকশাচালকের মাধ্যমে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর আবারও রোদের মধ্যে ঘোরাফেরা শুরু করেন সোহেল রানা। দুপুরের দিকে তার মৃতদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

কোনাবাড়ী মেট্রো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম আশরাফ উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি হিট স্ট্রোকে মারা গেছেন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে : তীব্র এ গরমে রাজধানীর হাসপাতালগুলোয় রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রচণ্ড দাবদাহে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের মহাখালীর আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) বা কলেরা হাসপাতালে ভিড় করতে দেখা গেছে।

আইসিডিডিআর’বি হাসপাতালের দেওয়া পরিসংখান অনুযায়ী, পানিবাহিত রোগ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১২ দিনে ৫ হাজার ৫৩৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৪৬২ জন এবং প্রতি ঘণ্টায় ১৯ জনের বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছেন। এর মধ্যে ৭ এপ্রিল ৪৬১ জন, ৮ এপ্রিল ৪৬৯ জন, ৯ এপ্রিল ৪১৪ জন, ১০ এপ্রিল ৪২৯ জন, ১১ এপ্রিল ৪৪৯ জন, ১২ এপ্রিল ৫৯৫ জন, ১৩ এপ্রিল ৫২৫ জন, ১৪ এপ্রিল ৪৩৪ জন, ১৫ এপ্রিল ৪৯১ জন, ১৬ এপ্রিল ৪৭৪ জন, ১৭ এপ্রিল ৪৩২ জন এবং ১৮ এপ্রিল বিকাল ৫টা পর্যন্ত ৩৬৬ জন ভর্তি হয়েছেন।

আইসিডিডিআর,বির অ্যাসিসটেন্ট সায়েন্টিস্ট শোয়েব বিন ইসলাম বলেন, গরমের কারণে সবাই পিপাসার্ত থাকে। বিশেষ করে দরিদ্র শ্রেণির মানুষ যারা বেশির ভাগ সময়ে বাইরে থাকেন। তাই তৃষ্ণা মেটাতে অনেকেই অনিরাপদ পানি পান ও অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে থাকেন। এতে ফুড পয়জনিং থেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এছাড়া টাইফয়েড ও পানিবাহিত হেপাটাইটিস, জন্ডিস হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। এখন হাসপাতালে যে রোগী পাচ্ছি, এর বেশির ভাগই পানিবাহিত ডায়রিয়া রোগী।

অন্যান্য হাসপাতালেও অনেকটা একই ধরনের চিত্র পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের পরিচালক ও শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর আলম যুগান্তরকে বলেন, তীব্র গরমে কিছুদিন ধরে শিশু হাসপাতালে রোগীর ভিড় বাড়ছে। শিশুদের হঠাৎ সর্দি-জ্বর, গরমজনিত ঠান্ডা, কাশি, শ্বাসকষ্ট, পানিশূন্যতা, দুর্বলতা, হাম, মাম্পস, পেট ব্যথা, বমির মতো উপসর্গ নিয়ে অভিভাবকরা হাসপাতালে আসছেন। এ রোগীদের বেশির ভাগ নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত।

তিনি জানান, শিশু হাসপাতালে নিউমোনিয়া নিয়ে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ২৮৬, ফেব্রুয়ারিতে ২১৬, মার্চে ৩৩০ এবং এপ্রিলে ২২৬ শিশু ভর্তি হয়েছিল। গত বছরের জানুয়ারিতে ৪২৯, ফেব্রুয়ারিতে ৩৫১, মার্চে ২৮২ এবং এপ্রিলে ৩১২ শিশু রোগী ভর্তি হয়েছিল। এ সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি ৫১৪, ফেব্রুয়ারি ৫৫৫, মার্চে ৫৩৩ এবং ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত ১৪০ জনের মতো শিশু নিউমোনিয়া নিয়ে ভর্তি হয়েছে। এছাড়া গত বছরের চেয়ে কিছুটা কম হলেও এবারও অনেক শিশু ডায়রিয়াজনিত অসুস্থতা নিয়ে ভর্তি হচ্ছে।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. ফারহানা আহমেদ স্মরণী যুগান্তরকে বলেন, সাধারণত দেশে মার্চ-এপ্রিলে গরমের তীব্রতায় শিশু ও বয়স্করা বিভিন্ন ধরনের ভাইরাল ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এবার বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে প্রায় সব ভাইরাসই স্ট্রেইন বা পরিবর্তন করতে শুরু করছে। ফলে শিশুরা কোন ভাইরাস দ্বারা রোগাক্রান্ত হচ্ছে, স্পষ্ট করে বলা মুশকিল। তবে ঘরে ঘরে শিশু ইনফ্লুয়েঞ্জাসহ বিভিন্ন ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, হাসপাতালে ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে শীতজনিত ঠান্ডা-কাশির রোগী থাকলেও মার্চ-এপ্রিলে এসে নিউমোনিয়া রোগী বাড়ছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইফফাত আরা শামসাদ যুগান্তরকে বলেন, ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের বহির্বিভাগে ফ্লু ও ভাইরাল ডিজিজ আক্রান্ত শিশু রোগী বাড়ছে। তিনি জানান, এমনিতেই বাংলাদেশে মার্চ-এপ্রিলে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেশি থাকে। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় নিউমোনিয়া ঝুঁকি বেশি। অনেকের সর্দি-কাশি, জ্বর থেকে শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া হচ্ছে। ৬ মাস থেকে ২ বছর বয়সি শিশু ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় তুলনামূলক বেশি ভুগছে। আক্রান্তদের বড় একটি অংশ ভাইরাল অ্যাটাক এবং অন্যরা ব্যাক্টেরিয়াল সংক্রমণজনিত নিউমোনিয়া নিয়ে ভর্তি হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরাও : অতিরিক্ত গরমে ছোট আম ঝড়ে পড়ছে। ধানের খেত ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, এতে ফলন কম হতে পারে। তবে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক হর্টিকালচার কেজেএম আব্দুল আওয়াল যুগান্তরকে বলেন, আমচাষিদের বলা হয়েছে গাছের গোড়ায় পানি দিতে। আর ২ শতাংশ বলাইনাশক ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে গাছে ছিটাতে বলা হয়েছে। এছাড়া ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, কৃষক ভাইদের ধানগাছের গোড়ায় ৪ ইঞ্চি পরিমাণ পানি বজায় রাখতে বলা হয়েছে। মাঠের কাজে নিয়োজিত কৃষকদের ছাতা ব্যবহার এবং বারবার পানি পান করতে বলা হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরির আরও খবর